মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কলসকাঠীর ইতিহাস

কলসকাঠী একটি  প্রাচীন জনপদ। কলসকাঠীতে তের জমিদারের বসবাস। বস্তুত পক্ষে কলসকাঠীর ইতিহাস জমিদারীর ইতিহাস। ১৭০০ সালের গোড়ার দিকে জমিদার জানকি বল্লভ রায় চৌধুরী কলসকাঠী স্থাপন করেন। আগে এর নাম ছিল কলুসকাঠী; কুলসকাঠী অপভ্রশ কলসকাঠী। জানকী বল্লভ রায় চৌধুরী ছিলেন গারড়িয়ার জমিদার রামাকান্তের পুত্র। জানকী বল্লভ রায় চৌধুরীরা ছিলেন দুই ভাই। বড় ভাই রাম বল্লভ। জানকী বল্লভকে হত্যার চক্রান্ত করে রাম বল্লভ। জানকী বল্লভ তার বৌদির মাধ্যমে হাত্যার বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আধারে গারুড়িয়া ত্যাগ করে মুর্শিদাবাদ চলে যান। সেখানে তিনি নাবাবের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন এবং নবাব তাকে অরংপুর পরগনার জমিদার হিসেবে নিয়োগ করেন। যতদূর র্পন্ত ভাটা তত দূর পর্যন্ত জানকী বল্লভের পাট্টা ছিল। জমিদারী পেয়ে তিনি কলসকাঠীতে এসে বসতি স্থাপন করে। কলসকাঠীর তের জমিদার মূলত জানকী বল্লভের পরবর্তী বংশধর।

 

১৮৮২ সালে জমিদার বরদাকান্ত রায় চৌধুরী কলসকাঠী হাইস্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় (কলসকাঠী বি.এম.একাডেমী ও কলসকাঠী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন।

 

কলসকাঠীতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা ছিল জমিদার আমল থেকেই। জমিদার আমলে কলকাতা থেকে নামাদামী ফুটবল খেলোয়ার আসত কলসকাঠী ফুটবল খেলতে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গান, নাটক ও যাত্রাপালা।

 

১৯০৮ সালে কলসকাঠীতে বান্ধব সমিতি গঠিত হয় এবং নরেন্দ্র রায় চৌধুরী শক্তি লাইব্রেরী তৈরি করেন। ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাম কৃষ্ণ মিশন।

১৯৩০ সালে ”লবন আইন” আমন্য আন্দোলনে অংশ গ্রহন করে কলসকাঠীর জনগন। কলসকাঠী থেকে ”লবন আইন” আমন্য আন্দোলনে যোগদানের জন্য কাথি অভিমুখে যাত্রা করেন শরবিন্দু মুখোপাধ্যায় (কষ্ট), কালীপদ মুখোপধ্যায়, মনোরঞ্জন দত্ত, মহেন্দ্র দত্ত, মহেন্দ্র দত্ত এবং মধুসুদন দত্ত।

 

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর সকল জমিদার ভারতের পশ্চিম বঙ্গে চলে যান। শুধু মাত্র বিজয় রায় চৌধুরী ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলসকাঠীতে আসেন। বর্তমান কলসকাঠী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তিনি জনসভা করেন।

১৯৭১ সালের ১৪ই মে পাকহানাদার বাহিনী কলসকাঠী আক্রমন করে। অনেক লোককে ধরে এনে কলসকাঠী খালের পাড়ে সাড়িবদ্ধভাবে দাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে।